• সোমবার, ০৪ মে ২০২৬, ০৮:২২ অপরাহ্ন |

ভবিষ্যতের চাবিকাঠি: ডিজিটাল

ডিজিটাল হচ্ছে ভবিষ্যৎ

মাইক্রোসফটের সহ-প্রতিষ্ঠাতা বিল গেটস পেশাগত কাজ থেকে অবসর নিলেও বিশ্বের নানা প্রান্তের বিজ্ঞান ও উদ্ভাবনসংক্রান্ত গবেষণার বিষয়ে নিয়মিত খোঁজখবর রাখেন। সম্প্রতি তিনি ভবিষ্যতের ডিজিটাল সেবা কেমন হবে, তা নিয়ে একটি লেখা নিজের লিংকড–ইন অ্যাকাউন্টে প্রকাশ করেছেন। এই লেখায় বিশ্বব্যাপী ডিজিটাল পাবলিক ইনফ্রাস্ট্রাকচার বা ডিপিআই বিপ্লব আসছে, তা বিশ্লেষণ করার চেষ্টা করেছেন তিনি।

প্রায় ৩০ বছর আগে, আমি ‘দ্য রোড অ্যাহেড’ নামে একটি বই লিখেছিলাম। বইটি ছিল ইন্টারনেট ও অন্যান্য নতুন ডিজিটাল প্রযুক্তির আবির্ভাবে যে সম্ভাবনা তৈরি হয়, তা নিয়ে। তখন আমি একটি আলাদা বিশ্বের কল্পনা করেছিলাম। সেখানে অনলাইন পেমেন্ট (লেনদেন) ও ই-গভর্নমেন্টের মাধ্যমে অর্থ, সেবা আর পরস্পরের সঙ্গে যোগাযোগ করার মাধ্যম নিয়ে কথা বলেছিলাম। আজ ডিপিআইয়ের উন্নয়নের কারণে সেই সব ধারণার বেশির ভাগই বাস্তবে পরিণত হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে নানা দেশ ভ্রমণ করে আমি খুব কাছ থেকে দেখেছি কীভাবে ডিজিটাল মাধ্যম জনগণকে সেবা দেওয়া, সংকটে সাড়া দেওয়া ও অর্থনীতির বৃদ্ধিতে বিপ্লব ঘটাচ্ছে। আর গেটস ফাউন্ডেশনে আমরা দরিদ্র দেশে জীবন বাঁচাতে ও দারিদ্র্যের বিরুদ্ধে লড়াই করছি। আমাদের কাজে গুরুত্বপূর্ণ অংশ হচ্ছে ডিপিআই।

ডিপিআইয়ের কয়েকটি মূল উপাদান রয়েছে। ডিজিটাল পরিচিতি ব্যবস্থার মাধ্যমে আপনি কে, তা প্রমাণ করেন। এই পদ্ধতি ব্যবহারে নিরাপদে তাৎক্ষণিক ও সস্তায় অর্থ আদান-প্রদান করা যায়। ডেটা বিনিময় মাধ্যম বা প্ল্যাটফর্ম বিভিন্ন সেবাকে নির্বিঘ্নে একসঙ্গে কাজ করার সুযোগ দেয়। এই সিস্টেম ও প্ল্যাটফর্ম ডিজিটাল বিশ্বে রাস্তা, সেতু ও বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইনের মতো। ডিজিটাল মাধ্যমে অন্তর্নিহিত এই কাঠামো মানুষের সঙ্গে ডেটা ও অর্থকে অনলাইনে সংযুক্ত করে৷ শক্তিশালী ডিপিআই জনগণের জন্য প্রয়োজনীয় সেবা গ্রহণের সুযোগ দেয়। আনুষ্ঠানিক মাধ্যমে অর্থনৈতিক কাজে যুক্ত হওয়া ও মানুষের জীবন উন্নত করার মাধ্যমে একটি দেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারে। অন্যদিকে খারাপভাবে ডিপিআই প্রয়োগ করলে বা অস্তিত্বহীন হলে দেশের উন্নয়ন ধীর হয়ে যেতে পারে। তখন অদক্ষতা ও বৈষম্য স্থায়ী হতে পারে।

একুশ শতকে ডিপিআই বাস্তবের অবকাঠামোর মতোই গুরুত্বপূর্ণ বলে প্রমাণিত হচ্ছে। ডিজিটাল অবকাঠামোর প্রভাব বিশ্বজুড়ে যেখানে প্রয়োগ করা হয়, সেখানেই এর প্রভাব দেখা যায়। ভারতের কথাই ধরুন, যেখানে আমি এই বছরের শুরুতে গিয়েছিলাম। দেশটির ডিজিটাল পরিচিতি ব্যবস্থার নাম আধার কার্ড। এই সিস্টেম দেশটির প্রত্যেক নাগরিক কে, তা প্রমাণ করার সুযোগ দিচ্ছে। এই ব্যবস্থার ইউনিফায়েড পেমেন্ট ইন্টারফেস সুবিধার মাধ্যমে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে তাত্ক্ষণিক অর্থ আদান–প্রদানের সুবিধা আছে। একই সঙ্গে এই সুবিধা আর্থিক সেবা নেওয়ার সুযোগ প্রসারিত করেছে। এর মাধ্যমে প্রাপ্তবয়স্কদের ডিজিটাল ব্যাংক হিসাবের সংখ্যা মাত্র ১০ বছরে প্রায় দ্বিগুণ হয়ে দাঁড়িয়েছে ৭৮ শতাংশে। নারীদের হিসাবের মালিকানা তিন গুণ বেড়েছে। ব্যাংক হিসাব মালিকানায় লিঙ্গ ব্যবধান সম্পূর্ণভাবে দূর করেছে। গত এক দশকে দেশটির মোবাইল নেটওয়ার্কের দ্রুত সম্প্রসারণের কারণে অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন বেড়েছে।

অধিকাংশ উন্নয়নশীল দেশে কৃষি সবচেয়ে বড় শিল্প ও কাজের উৎস। ডিজিটাল উপায়ে কৃষি খাতও উপকৃত হচ্ছে। কেনিয়ায় একটি জাতীয় কৃষক রেজিস্ট্রি আছে, যেখানে ৬০ লাখ জিও-ট্যাগযুক্ত কৃষকের তথ্য আছে। এই রেজিস্ট্রি থেকে ফসল ও আবহাওয়াবিষয়ক সতর্কতার বার্তা সাপ্তাহিকভাবে পাঠানো হচ্ছে। রুয়ান্ডায় চা–শিল্পের শ্রমিকদের জন্য ডিজিটাল ব্যবস্থা আছে, যা চা–পাতা সরবরাহকারীদের মজুরি প্রাপ্তির সময় ১৫ দিন থেকে কমিয়ে তিন দিনে নামিয়ে এনেছে।

স্বাস্থ্য খাতে ডিপিআই সেবা প্রদান ও পেমেন্ট সিস্টেমে পরিবর্তন এনেছে। আইভরি কোস্ট ও মালিতে সাম্প্রতিক সময়ে পোলিও টিকাদান কর্মসূচিতে টিকাদানকারীর উপস্থিতি অনুসরণ করার জন্য ডিজিটাল পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়েছে। একই সঙ্গে ইনস্ট্যান্ট পেমেন্ট সিস্টেমের মাধ্যমে তাত্ক্ষণিক অর্থ প্রদান করা হয়। আগে মাস লেগে যেত কাগজভিত্তিক সিস্টেমের অর্থ প্রদান করতে। এখন ৯৯ শতাংশের বেশি টিকাদানকারীকে এক সপ্তাহের মধ্যে অর্থ প্রদান করা হচ্ছে। দক্ষতা ও নির্ভরযোগ্যতার কারণে প্রায় সব টিকাদানকারী এখন ডিজিটাল পেমেন্ট পছন্দ করেন। যদিও কেবল সময়মতো অর্থ প্রদানের বিষয়ে নয়, স্বাস্থ্যব্যবস্থার প্রতি আস্থা তৈরি করার বিষয়টি প্রকাশ করছে। এখন জীবন রক্ষ


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *