• রবিবার, ০৩ মে ২০২৬, ০৪:০৭ অপরাহ্ন |

কমলা-ট্রাম্পের দ্বন্দ্ব: পুতিন, চিন, মোদি ও সৌদি যুবরাজের সমর্থন কার পক্ষে?

ডোনাল্ড ট্রাম্প না কমলা হ্যারিস? হিসাব কে আর পাঁচটা দেশের ‘পছন্দ’!

ইউরোপে বসে এটা বিশ্বাস করা বেশ সহজ যে সারা দুনিয়াই কমলা হ্যারিসকে চায়—যুক্তরাষ্ট্রের পরবর্তী প্রেসিডেন্ট হিসেবে। বিষয়টা ঠিক এ রকম নয়। বরং বিশ্বের অনেক শক্তিশালী সরকার বরং চায় যে ডোনাল্ড ট্রাম্প যেন আসন্ন নির্বাচনে জয়লাভ করেন।

কোন কোন দেশ ট্রাম্পের পক্ষে? রাশিয়া, ইসরায়েল, ভারত, হাঙ্গেরি আর সৌদি আরব। আর কমলা হ্যারিসের দলে রয়েছে ইউক্রেন, ইইউর বেশির ভাগ দেশ, ব্রিটেন, জাপান, কানাডা, ব্রাজিল, দক্ষিণ আফ্রিকা আর এমনই আরও অনেকে।

রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ব্যক্ত করেছেন যে ট্রাম্পের জয় তাঁর জন্য কাম্য। কারণ ট্রাম্পের নেতৃত্বাধীন মার্কিন সরকার ইউক্রেনকে কম সাহায্য করবে, আর তাতে ইউক্রেনের ওপরে পুতিনের বিজয় অনেক সহজ হবে। কমলা হ্যারিসের জয়ও পুতিন চান। তবে এটা অল্প কথাতে তিনি বোঝাতে পারেননি। তাও তাঁর উক্তি থেকে এটাই বোঝা যায় যে হ্যারিসের ওপর তাঁর জোক করার খুব ইচ্ছে হচ্ছে।

রাশিয়ার এই মার্কিন নির্বাচন প্রভাবিত করার কৌশল ইইউর জন্য একটা দুঃস্বপ্ন। কারণ, ইউক্রেন হেরে গেলে ইইউর পূর্বের দিকটা রাশিয়ার আক্রমণের হুমকির মুখে পড়বে। আর ট্রাম্প ইউনাইটেড স্টেটসকে ন্যাটো থেকে বের করে দিলে (তাঁর প্রাক্তন অনেক সহযোগী এমনটা আভাস দিয়েছেন), তিনি এই জোটকে দুর্বল করে দেবেন। তাছাড়া, ট্রাম্প বেশ কয়েকবার বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র স্বয়ংক্রিয়ভাবে ন্যাটো জোটের দেশগুলির রক্ষা করবে না।

ট্রাম্পের আমদানি পণ্যের ওপর ১০ থেকে ২০ শতাংশ শুল্ক আরোপের প্রস্তাব ইউরোপের অর্থনীতির জন্য বড় হুমকি। বিশেষত জার্মানির মতো রপ্তানিকারক দেশগুলির জন্য। এই কারণে ইইউর সঙ্গে বাণিজ্যযুদ্ধ শুরু হতে পারে।

অবশ্য ইউরোপে এমন কিছু সরকারও আছে, যাদের হ্যারিসপন্থী থাকার বিষয়ে মতান্তর আছে। ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি চরম ডানপন্থী এবং তিনি নিজেকে ইইউর সঙ্গে ট্রাম্পের সমঝোতায় মধ্যস্থতাকারী হিসেবে দেখতে চান।

হাঙ্গেরির ভিক্টর ওরবান ডানপন্থীদের সঙ্গে বিশেষ সম্পর্ক তৈরি করেছেন। হাঙ্গেরির প্রধানমন্ত্রীর মতোই তারা অভিবাসী-বিরোধী। তারা ওরবানের কাছ থেকে শিখতে আগ্রহী যে ওরবান কীভাবে হাঙ্গেরির গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলির বারোটা বাজিয়েছেন।

বাংলাদেশের ‘শাসনক্ষমতার পালাবদল’ ঘটাতে মার্কিন উদারপন্থীদের হাত থাকার অভিযোগ ভারতে এখন রোজকার খবর। ভারতীয়দের ভয়, এর ফলে বাংলাদেশে ইসলামপন্থীরা ক্ষমতা নিতে পারে। একজন লৌহমানব নেতা আর গোষ্ঠীভিত্তিক জাতীয়তাবাদী হিসেবে মোদি কমলা হ্যারিসের তুলনায় ট্রাম্পের সঙ্গে বেশি স্বস্তিবোধ করেন। যদিও হ্যারিসের ভারতের সঙ্গে পারিবারিক সম্পর্ক রয়েছে।

ট্রাম্পের জয়কে ওরবান দেখবেন পশ্চিমা দুনিয়ার মতাদর্শ তাঁর দিকেই ঝুঁকে রয়েছে। ফ্রান্সের ন্যাশনাল র্যালি আর জার্মানির অল্টারনেটিভ ফর জার্মানির মতো জনতুষ্টিবাদী ও চরম ডানপন্থী ইউরোপীয় রাজনৈতিক দলগুলি হয়তো ট্রাম্পের হোয়াইট হাউসের কাছ থেকে তাদের সমর্থন চাইবে। ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের শাসনক্ষমতায় ফিরে এলে ইউরোপের উদার গণতন্ত্রের বড় ধরনের বিপদে পড়ার সম্ভাবনা। কারণ, এখানে যুক্তরাষ্ট্র আর রাশিয়ার পাশাপাশি তাদের নিজেদের চরম ডানপন্থীরা তিন দিক থেকে মোকাবিলা করতে হবে।

ক্ষমতার রাজনীতির ওপর ট্রাম্পের জোর দেওয়া আর গণতন্ত্র ও মানবাধিকারের প্রতি তাঁর উদাসীনতা ইইউকে উদ্বিগ্ন করে তুলেছে। তবে তাঁর এই অবস্থানই আবার তাঁকে ইসরায়েলের বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু, সৌদি আরবের মোহাম্মদ বিন সালমান আর ভারতের নরেন্দ্র মোদির পছন্দের অংশীদার করে তুলেছে।

ইসরায়েলে কমলা হ্যারিসকে সন্দেহের চোখে দেখা হয়। কারণ তিনি জো বাইডেনের তুলনায় ইসরায়েলের বড় সমালোচক। কংগ্রেসে নেতানিয়াহুর বক্তৃতার সময় তিনি নিজের পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচির কথা বলে উপস্থিত ছিলেন না। একজন ইসরায়েলি কর্মকর্তা বলেছেন, ‘৮০ শতাংশ আমেরিকান ইহুদি কমলা হ্যারিসকে ভোট দেবে। কিন্তু ৮০ শতাংশ ইসরায়েলি ট্রাম্পকেই ভোট দেবে।’

সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানকে (এমবিএস) সমালোচনা থেকে বাইডেন প্রশাসন অনেক আগেই সরে এসেছে। বরং মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন প্রভাব বাড়াতে সৌদি আরব ও যুক্তরাষ্ট্রের একটা নতুন নিরাপত্তা চুক্তি তৈরি হয়েছে। তবে এমবিএস মনে রেখেছেন, সৌদি সাংবাদিক জামাল খাসোগি নিষ্ঠুরভাবে খুন হওয়ার পর ডেমোক্র্যাটরা তাঁকে পরিত্যাগ করার জন্য কীভাবে নেতৃত্ব দ


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *