‘ডুব’, ইংরেজিতে ‘নো বেড অব রোজেস’ নামের সিনেমাটি ২০১৮ সালে অস্কার প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশ থেকে গিয়েছিল। সে সময় যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ম্যাগাজিন ‘ভ্যারাইটি’-র রিভিউয়ার ম্যাগি লি একটা কথা বলেছিলেন, যেটা বাংলাদেশের জন্য গর্বের কথা। সিনেমাটির মধ্যে সুখ, একাকিত্ব এবং মনস্তত্ত্বের কথা উল্লেখ করে তিনি মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর সম্পর্কে বলেছেন, ‘ফারুকী প্রমাণ করেছেন, তিনি বাংলাদেশি চলচ্চিত্রে একটা অনন্য কণ্ঠস্বর।’
যিনি কবিতা লেখেন, তাঁকে যদি ‘কবিয়াল’ বলা যেতে পারে তাহলে যে ছবি বানায়, তাকে ‘ছবিয়াল’ কেন বলা যাবে না। এটাই হয়তো ‘ছবিয়াল’ শব্দটির উৎপত্তি। ব্যাখ্যা করার সময় মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ‘বোধ হয়’ শব্দটা ব্যবহার করেছেন। কেন করেছেন, তার উত্তর জানা হয়নি। তবে অনুমান করা যায়, অনেক আগের কথা বলেই বোধ হয় এভাবে বলেছেন। তাহলে এখন জানা দরকার কত আগের কথা? ২৫ বছর আগের।
২৫ বছর বলতেই স্মৃতির বাক্স যেন হঠাৎ করে ফারুকীর সামনে এসে পড়ল। হয়তো তিনি চাইছিলেন, সবকটা বাক্সের মুখ খুলে ফেলবেন। কিন্তু তা সম্ভব নয়। তালে তালে গড়ে ওঠা ‘ছবিয়াল’, ভুল করে শিখে শিখে এগিয়ে যাওয়া ফারুকীর ২৫ বছরের গল্প এত কিছুক্ষণে শোনা বা বলা যায় না।
‘ছবিয়াল’ নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর নিজস্ব প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান। এই প্রতিষ্ঠানের ব্যানারেই তিনি বিজ্ঞাপন, নাটক, সিনেমা বানিয়ে আসছেন।
১৯৯৮ সালে, ‘ছবিয়াল’ থেকে ফারুকীর প্রথম নির্মাণ ছিল ‘ওয়েটিং রুম’। সে সময় কোনো টিভি চ্যানেলই ফিকশনটি কিনতে চায়নি। ২৫ বছর পরে এসে ছবিটা সম্পূর্ণ বদলে গেছে। মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর নামের আগে আজ যুক্ত হয়েছে বিশেষণ। তিনি এখন আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন চলচ্চিত্রকার। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো সেই স্বীকৃতি তাঁকে দিয়েছে।
এই পথ সহজ ছিল না, এখনো নয়। ‘ছবিয়াল’ থেকে ফারুকীর সাম্প্রতিক নির্মাণ ‘সামথিং লাইক অ্যান অটোবায়োগ্রাফি’ সিনেমাটি দেখলে তার কিছুটা আঁচ পাওয়া যায়। ফারুকী বলেন, ‘ছবিয়াল থেকে আমরা এমন সব সিনেমাই করতে চেয়েছি, যার মধ্যে বাংলাদেশের নিশ্বাস আছে।’ নিজস্বতা তৈরি করার এই চেষ্টায় ‘ছবিয়াল’ এবং ফারুকীকে অনন্য করে তুলেছে। এই যাত্রায় ‘ছবিয়াল’ এবং ফারুকীকে অনেকেই সাহায্য করেছেন। যাঁদের মধ্যে চ্যানেল ‘আই’-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফরিদুর রেজা সাগর এবং চ্যানেল ‘ওয়ান’-এর কর্ণধার গিয়াস উদ্দিন আল মামুন অন্যতম। একটা সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই সব তথ্য জানানো হয়েছে।
‘ছবিয়াল’-এর ২৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে ফরিদুর রেজা সাগর বলেছেন, “‘ব্যাচেলর’ সিনেমা নির্মাণের সময় ফারুকীর সঙ্গে আমার পরিচয়। সেই ফারুকী এখন কোন পর্যায়ে আছেন, তা দর্শকেরা ভালো করেই জানেন। ফারুকী শুধু চলচ্চিত্র নির্মাতা নন, সমাজের সবকিছু নিয়েই তাঁর আছে বিচার-বিশ্লেষণ। তাই ফারুকীর সিনেমায় আমরা নিজেদের খুঁজে পাই।’
‘ছবিয়াল’ শুরুর দিকে চ্যানেল ‘ওয়ান’ থেকে সিরিজ চাওয়া হয়েছিল ‘ছবিয়াল’ বা ফারুকীর কাছে। সিরিজ না করে ‘ছবিয়াল উৎসব’ করার প্রস্তাব দিয়েছিলেন ফারুকী। সেই সময়ের কথা উল্লেখ করে গিয়াস উদ্দিন আল মামুন বলেছেন, ‘আমাদের বিশ্বাস ছিল, আমাদের দেশের তরুণেরা অনেক সুন্দর এবং নতুন কিছু করতে পারে। যার জন্য আমরা চ্যালেঞ্জটা নিয়েছিলাম এবং সফলও হয়েছি।’
এর পাশাপাশি ‘ছবিয়াল’ দেশের বিনোদন অঙ্গনে আরও একটা দৃষ্টান্ত রেখে গেছে। সেটা হলো, ফারুকীর পাশাপাশি তরুণ নির্মাতা তৈরি করা। যাঁরা একসময় ছিলেন ‘ছবিয়াল’-এর সহকারী পরিচালক, তাঁরাই এখন নিজেদের নামে খ্যাতি অর্জন করেছেন। অনেকেই তাঁদের ‘ভাই বেরাদার’ নামে চেনেন। যাঁদের মধ্যে আছেন রেদওয়ান রনি, আশুতোষ সুজন, শরাফ আহমেদ জীবন, আশফাক নিপুণ, ইফতেখার আহমেদ ফাহমী, মুহাম্মদ মোস্তফা কামাল রাজ এবং আদনান আল রাজীব।
‘ভাই বেরাদার’ আশফাক নিপুণ স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে বলেন, ‘আমার নির্মাণের সবার শেষে লেখা থাকে, “বানিয়েছেন আশফাক নিপুণ”। আর সেই আশফাক নিপুণকে বানিয়েছে ‘ছবিয়াল’, মোস্তফা সরয়ার ফারুকী। আজ যা একটু করতে পারি, তা ওই দুটো নামের জন্য।’
আরেক ‘ভাই বেরাদার’ এবং ওটিটি প্ল্যাটফর্ম ‘চরকি’-র প্রধান নির্বাহী রেদওয়ান রনি বলেন, ‘ছবিয়াল আমার এবং আমার মতো অনেকের আঁতুরঘর। ছবিয়াল নিয়ে অল্প কথায় বলা যায় না, কারণ এটা খুব ইমোশনাল জায়গা, ইমোশনাল জার্নি। ছবিয়াল কোনো প্রতিষ্ঠান না, এটা একটা আঁতুরঘর, আশ্রম।’
২৫ বছরের পথচলায় ফারুকী এবং ‘ছবিয়াল’-এর অন