অটোমান সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা ওসমান বে: জনপ্রিয়তার কারণ
চতুর্থ পর্ব
পূর্ববর্তী অধ্যায়ে বলা হয়েছে যে, আনাতোলিয়ায় তুর্কিদের বিরুদ্ধে কয়েক মাসের দীর্ঘ যুদ্ধের পর ইলখানাত সাম্রাজ্যের মোঙ্গল সম্রাট গেইহাতু পারস্যে ফিরে যান। প্রথমদিকে তাঁর অভিযানে কিছু সাফল্য থাকলেও তুর্কিরা তাঁদের কাছ থেকে হারানো এলাকাগুলো পুনরুদ্ধার করে। গেইহাতুর অভিযানে কিছু অর্জন থাকলেও তাঁকে বেশ ক্ষয়ক্ষতি বহন করতে হয়। ফলে এ অভিযানের ফল অস্পষ্ট থেকে যায়। শুধু ইয়াভলাক আরসলানের বেইলিকটির পতন ঘটেছিল। অন্য কোনো বেইলিকের পতন ঘটেনি। এই অভিযানের পর থেকে ওসমান তাঁর এলাকায় প্রায় স্বাধীনভাবেই শাসন পরিচালনা করতে শুরু করেন এবং নিজের রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা এগিয়ে নিয়ে যান। ইয়াভলাক আরসলানের মৃত্যুর পর ওসমানের সাথে সম্পাদিত শান্তি চুক্তি ভেঙে গেলেও ওসমান ইয়াভলাকের দুই পুত্র, মাহমুদ এবং আলি বেকে বিভিন্নভাবে সাহায্য করতে থাকেন।
ওসমান বে: জনপ্রিয়তার প্রথম কারণ
১২৯৫ সালে ইলখানাত সাম্রাজ্যে গৃহযুদ্ধ শুরু হওয়ার পর, গেইহাতু বিদ্রোহ দমন করতে গিয়ে নিজেই এক যুদ্ধে মারা যান। তাঁকে হত্যা করে বায়দু ইলখানাতের সিংহাসনে বসেন। কিন্তু কিছু মাস পরেই বায়দুকে হত্যা করে গাজান খান সিংহাসন অধিকার করেন। সিংহাসনে আরোহণের পর কিছুদিনের মধ্যেই গাজান খান ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন এবং তাঁর ইলখানাত সাম্রাজ্যের বেশিরভাগ মোঙ্গল সৈন্য, কমান্ডার এবং গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরাও ইসলাম গ্রহণ করেন। তাদের এই ধর্মীয় রূপান্তরে সাম্রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত পারস্য-তুর্কি মুসলিম জনগণ এবং সুফি শাইখদের অবদান অনেক বেশি। ১২৯৬ সালের দিকে গাজান খানের আদেশে সুলতান মাসুদকে সেলজুক রুম সাম্রাজ্যের সিংহাসন থেকে সরিয়ে দেওয়া হয় এবং তাঁর স্থলাভিষিক্ত করা হয় সুলতান তৃতীয় আলাউদ্দিন কায়কোবাদকে। মূল কারণটি ছিল, আনাতোলিয়ায় কয়েকটি তুর্কি রাষ্ট্রের উদয়, যার মধ্যে ওসমানের কায়ী গোত্র অন্যতম। গাজান খানের এই সিদ্ধান্ত থেকে বোঝা যায় যে তিনি মোঙ্গল সাম্রাজ্যের অবনতি এবং অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের কারণে আনাতোলিয়ায় নতুন তুর্কি রাষ্ট্রগুলোর উত্থানকে নিরুৎসাহিত করতে চেয়েছিলেন।
ওসমান বে: জনপ্রিয়তার দ্বিতীয় কারণ
১২৯৯ সালের মাঝামাঝি সময়ে, রোমান দুর্গ বিলেচিকের মালিকের পুত্র এবং অন্য একটি রোমান দুর্গ, ইয়ারহিসারের মালিকের কন্যার বিয়ের আয়োজন করা হয়। বিয়ের অনুষ্ঠানটি বিলেচিক দুর্গে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। ওসমান বেকে বিলেচিক দুর্গের মালিক সেই বিয়ের অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানান। ওসমানও সে আমন্ত্রণ গ্রহণ করেন। বিলেচিকের রোমান মালিকের সাথে ওসমানের বেশ কয়েক বছর ধরে বাণিজ্যিক সম্পর্ক ছিল। বিয়ের অনুষ্ঠানের আগের রাতে ওসমানের দীর্ঘদিনের বিশ্বস্ত বন্ধু এবং হারমানকায়া দুর্গের রোমান মালিক, মিহাইল কোসেস, ওসমানকে সেই বিয়ের অনুষ্ঠানে না যাওয়ার জন্য বারণ করেন। মিহাইল কোসেস দাবি করেন যে তিনি গোপনে বিলেচিক এবং ইয়ারহিসারের মালিকদের একটি ষড়যন্ত্রের কথা জেনেছেন। সেই ষড়যন্ত্রের উদ্দেশ্য ছিল, বিয়ের অনুষ্ঠানে ওসমানকে ফাঁদে ফেলে হত্যা করা। ওসমানের খুব রাগ হয় এবং বিলেচিকের মালিকের সাথে তাঁর দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বের এই বিশ্বাসঘাতকতা তাঁকে খুব মর্মান্তিকভাবে বিষণ্ন করে। পরের দিন ওসমান বিয়ের অনুষ্ঠানকে একটি সুন্দর পরিকল্পনার মাধ্যমে বিলেচিক দুর্গকে তাঁর নিয়ন্ত্রণে আনার অস্ত্র হিসাবে ব্যবহার করেন। বিয়ের দিন ওসমান তাঁর প্রায় ৪০ জন কায়ী সৈন্যকে বিলেচিক দুর্গে পাঠান, যারা বিয়ের উপহার হিসাবে ওসমানের দেওয়া জিনিসপত্র নিয়ে যাচ্ছিলেন। পরে সন্ধ্যার দিকে ওসমান এবং তাঁর কয়েকজন প্রিয় আল্প বিলেচিকে প্রবেশ করেন। কিছুক্ষণের মধ্যেই, ওসমানের আগে পাঠানো ৪০ জন সৈন্য, দুর্গের রোমান নাইট বাহিনীকে আক্রমণ করে। ওসমানের সাথে থাকা কয়েকজন প্রিয় আল্প দেরি না করে, দুর্গের ফটকের কাছে থাকা নাইটদের হত্যা করে এবং দুর্গের প্রধান ফটক খুলে দেন। ফলে, দুর্গের বাইরে অপেক্ষা করছিল প্রায় ১৫০ কায়ী সৈন্য দুর্গে প্রবেশ করে এবং ৪০০ জন নাইটের বিরুদ্ধে ওসমানের ২০০ জন সৈন্যের একটি তুমুল যুদ্ধ শুরু হয়। এই যুদ্ধটি তেমন একটা দীর্ঘ হয়নি কারণ কায়ী সৈন্যরা অত্যন্ত দক্ষ এবং সাহসী যোদ্ধা ছিল। তাই তাদের এই অতর্কিত আক্রমণে দুর্গের রোমান নাইট বাহিনী দ্বিগুণ সংখ্যায় থাকলেও পরাজয় বরণ করে। ওসমান, বিলেচিকের মালিকের বিশ্বাসঘাতকতার শাস্তি হিসেবে, তার শিরশ্ছেদ করেন। ওসমান বিলেচিককে কায়ী গোত্রের পতাকার অধীনে আনার পরপরই তিনি এবং তাঁর ২০০ কায়ী স