• বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬, ০৬:১৯ অপরাহ্ন |

অম্লতার সমস্যা থেকে মুক্তির উপায়

টক ঢেকুর বা বুক জ্বালাপোড়া প্রতিরোধের উপায়

যে কেউ ভরপেট খাওয়ার পর শরীর ও মনে স্বস্তির আশা করে। কিন্তু কারো ক্ষেত্রে খাওয়ার পরই বাধে ভয়াবহ বিপত্তি। খাওয়ার পরই অনেকের গলা বেয়ে উঠে আসে টক ঢেকুর, শুরু হয় গলা জ্বালা বা অস্বস্তি। কারো কারো বুকের মধ্যখানে হতে পারে জ্বলুনি বা ব্যথা। কখনো আরও নানা উপসর্গ দেখা দিতে পারে। অস্বস্তিকর কাশি, রাতে ঘুমানোর সময় গলা খুসখুস, শ্বাসকষ্ট, প্রচণ্ড কাশি ইত্যাদি সমস্যা নিয়েও অনেকে ডাক্তারের পরামর্শ নিতে ছোটেন।

সাধারণত খাবার খেলে তা আমাদের খাদ্যনালি হয়ে পাকস্থলীতে পৌঁছায়। খাদ্যনালির একেবারে শেষ প্রান্তে থাকে একটা দরজার মতো, যাকে বলা হয় ‘লোয়ার এসোফেজিয়াল স্ফিংটার’। এর কাজ হচ্ছে খাবার যেন ওপরের দিকে না ওঠে বা পিছন দিকে না যায়, তা রোধ করা। এই লোয়ার এসোফেজিয়াল স্ফিংটারের পেশিগুলো দুর্বল হলে বা ঠিকমতো কাজ না করলে, আধা হজম হওয়া খাবার এবং পাকস্থলীর অ্যাসিড উল্টো দিকে চলে যায় খাদ্যনালির দিকে। ফলে টক ঢেকুর, বুক জ্বালা বা ব্যথাসহ আরও কিছু উপসর্গ দেখা দিতে পারে।

বুক জ্বালা এবং অ্যাসিডিটির কারণ ও প্রতিকার

এই সমস্যার জন্য কিছু কিছু কারণ দায়ী। যেমন:

  • স্থূলতা বা অতিরিক্ত ওজন
  • গর্ভাবস্থা
  • হায়াটাল হার্নিয়া
  • কিছু বিরল রোগ (যেমন: স্ক্লেরোডারমা)

এছাড়াও অ্যালকোহল, ক্যাফেইন ইত্যাদির সাথেও গ্যাস্ট্রোইসোফেজিয়াল রিফ্লাক্স ডিজিজ বা জিইআরডি-র সম্পর্ক রয়েছে। ভারী খাবার বা চর্বিজাতীয় খাবার খেলেও এই সমস্যা বাড়তে পারে। খুব আঁটসাঁট পোশাক পরলেও হতে পারে বিপত্তি।

এই সমস্যা শনাক্ত করার জন্য বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই রোগের লক্ষণই যথেষ্ট। তবে কখনও কখনও এন্ডোস্কপি পরীক্ষার দরকার হতে পারে। কখনও কখনও খাদ্যনালির স্ফিংটারের কার্যকারিতা দেখার জন্য বা অ্যাসিডের মাত্রা দেখার জন্য কিছু বিশেষ পরীক্ষা-নিরীক্ষার প্রয়োজন পড়ে। জিইআরডি শুধু শারীরিক অস্বস্তিই করে না, দীর্ঘদিন ধরে এটি চলতে থাকলে, পরিপাকতন্ত্রের নানা জটিলতা দেখা দিতে পারে। হতে পারে খাদ্যনালির আলসার, খাদ্যনালি সরু হয়ে যাওয়া, এমনকি দীর্ঘদিন ধরে পাকস্থলীর অ্যাসিড খাদ্যনালির স্থায়ী পরিবর্তন ঘটিয়ে ক্যান্সারের আগের অবস্থার সৃষ্টি করতে পারে। ফলে পরবর্তী সময়ে ক্যান্সার হওয়ার আশঙ্কা বেড়ে যায়। অতএব জিইআরডি শুধু বুক জ্বালাপোড়া বা টক ঢেকুরের সমস্যা নয়, বরং আরও অনেক জটিলতার কারণ। তাই এর চিকিৎসাও করা প্রয়োজন গুরুত্বসহকারে।

প্রতিরোধের উপায়:

  • একসঙ্গে খুব ভরপেট খাবেন না।
  • খেয়েই শুয়ে পড়া উচিত নয়।
  • খাবার খাওয়ার পর পেটের উপর চাপ পড়ে এমন কাজ করা উচিত নয়।
  • ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখুন।
  • ধূমপান বা মদ্যপান এড়িয়ে চলুন।
  • অতিরিক্ত তেল–চর্বি জাতীয় খাবার এড়িয়ে চলুন।

কিছু ওষুধ পাকস্থলীর অ্যাসিড ক্ষরণ কমাতে সাহায্য করে বা অ্যান্টাসিড জাতীয় ওষুধ অ্যাসিড উপশমে সহায়তা করতে পারে। কখনও কখনও ওষুধে কাজ না দিলে অপারেশনেরও প্রয়োজন হতে পারে। তবে সঠিক কিছু নিয়ম মেনে চললে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই জিইআরডি-র সমস্যা কমানো যায়।

ডা. শাহনূর শারমিন
সহযোগী অধ্যাপক, মেডিসিন বিভাগ, ঢাকা মেডিকেল কলেজ


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *