• সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬, ১০:০৩ অপরাহ্ন |
শিরোনাম :
রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধান রাখাইনেই নিহিত: পররাষ্ট্রমন্ত্রী বজ্রপাতে ৪ জেলায় ১০ জনের মৃত্যু বাংলার জয়যাত্রা জাহাজের হরমুজ অতিক্রমের কূটনৈতিক চেষ্টা চলছে : শেখ রবিউল আলম উপজেলা স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়ন ও বিকেন্দ্রীকরণে সরকার বদ্ধপরিকর : প্রধানমন্ত্রী সরকার ২ মাসে ৬০টি পদক্ষেপ বাস্তবায়ন করেছে : মাহদী আমিন হাসিনাকে ফেরানোর অনুরোধ খতিয়ে দেখছে ভারত প্রথম ওয়ানডেতে বাংলাদেশকে ২৬ রানে হারালো নিউজিল্যান্ড সংরক্ষিত নারী আসনে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশীদের সাক্ষাৎকার অনুষ্ঠিত ইসরাইল ও লেবাননের মধ্যে ১০ দিনের যুদ্ধবিরতি চুক্তি কার্যকর দেশে এপ্রিল ও মে মাসের পূর্ণ জ্বালানি মজুত রয়েছে: প্রতিমন্ত্রী

হায় কাজল! এটা করলেন কী আপনি

হায় কাজল! তুমি কি করলে এবার?

সবসময় নিজের কামের ব্যাপারে আঁকড়ে থাকেন কাজল। কিন্তু "দো পাত্তি" দেখলে তাঁর এই খ্যাতি ভেঙে যেতে বাধ্য। গত শুক্রবার নেটফ্লিক্সে মুক্তি পাওয়া এই ছবিটি দেখে আপনার মন ভরবে বলে মনে হয় না। শুধু কাজল নয়, ছবিটিও খারাপ?

পুরোপুরি ছবির একনজর:

  • পরিচালক: শশাঙ্ক চতুর্বেদী
  • অভিনয়ে: কাজল, কৃতি শ্যানন, শাহির শেখ
  • স্ট্রিমিং: নেটফ্লিক্স

ভারতের পাহাড়ি এলাকাকে উপজীব্য করে অনেকগুলো সিনেমা হয়েছে, থ্রিলার মুভিও হয়েছে তার চেয়ে বেশি। তবে পাহাড়ের পটভূমিতে থ্রিলার, আর তার ওপর কাজল, কৃতি শ্যানন-এর মতো দুই তারকা — "দো পাত্তি" নিয়ে আকাশের চাঁদ হাতে আনা যায় বলে মনে হয়েছিল। কিন্তু শশাঙ্ক চতুর্বেদীর এই ওয়েব ফিল্ম কি সত্যিই মন জিততে পেরেছে?

গল্পের সংক্ষিপ্ত বিবরণ:

এই গল্প দুই যমজ বোনকে নিয়ে। ছোটবেলা থেকেই তাদের মধ্যে রেষারেষি। সেটা বড় হয়ে প্রেমিক নির্বাচনের ক্ষেত্রেও চলে আসে প্রবলভাবে। একজন তাকে বিয়ে করে। এরপর থেকেই বিপত্তি, স্বামীর হাতে নির্যাতনের শিকার হওয়া দাঁড়ায় প্রতিদিনের ঘটনা। কিন্তু স্বামী এত অপরাধ করলেও স্ত্রী অভিযোগ জানাতে নারাজ। এর মধ্যে নতুন এক রহস্যে হাজির হয়। সমাধানে নামেন পুলিশ কর্মকর্তা জ্যোতি কানওয়া (কাজল)। গল্প শুনলে রোমাঞ্চকর মনে হলেও আদতে তা নয়।

দূর্বল চিত্রনাট্যের খেত

ছবির চিত্রনাট্যে দৈনন্দিন জীবনের চেনা নারীদের গল্প তুলে ধরেছেন কণিকা ধিলোঁ। এই নারীরা একই সঙ্গে অসহায় এবং নিজের মতো করে শক্তিশালী। তাঁর লেখা সিনেমা "মনমর্জিয়া", "হাসিন দিলরুবা"-র ব্যাপক আলোচনা হয়েছে। কিন্তু এই সিনেমাতে তাঁর সব চেষ্টাই মাঠে মারা গেছে।

এই ছবির মূল লক্ষ্য ছিল থ্রিলারের আবরণে পারিবারিক নির্যাতন সম্পর্কে বার্তা দেয়া। উদ্দেশ্য ভালো হলেও পরিবেশনা একেবারেই যথাযথ নয়। দুর্বল চিত্রনাট্যই এই ছবির সবচেয়ে বড় সমস্যা। আজকাল কেউ ছবিতে বার্তা দিলেও সেটা এমনভাবে আসে, যেন আরোপিত মনে না হয়। কিন্তু "দো পাত্তি"-তে সেটা এসেছে অতি আরোপিতভাবে। শুধু তা–ই নয়, ছবির নানা জায়গাতেও সেটা জোর করে প্রচার করা হয়েছে, যা ছিল খুবই দৃষ্টিকটু। চিত্রনাট্যের খামতিতে ঝুলে পড়েছে গোটা সিনেমাটাই।

ছবিতে যমজ দুই বোনের পার্থক্য তুলে ধরা হয়েছে খুবই ক্লিশেভাবে। এক বোন রক্ষণশীল, অন্যজন উদারমনা। এটা বোঝাতে নির্মাতা সেই চিরাচরিত পোশাকের আশ্রয় নিয়েছেন। আরও পাঁচ দশক আগের হিন্দি সিনেমায় যা আকছার দেখা যেত।

একা কৃতিতেই ছবি ভাসলেন

ছবির একমাত্র ইতিবাচক দিক কৃতি শ্যানন। যমজ দুই বোনের চরিত্রে তিনি দুর্দান্ত অভিনয় করেছেন। বিশেষ করে আবেগের দৃশ্যগুলো তিনি ছিলেন অনবদ্য। এ ছবি আবারও মনে করিয়ে দিয়েছে "মিমি"-র জন্য ভারতের জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে সেরা অভিনেত্রী হওয়াটা মোটেও ‘ঝড়ে বক পড়া’ ছিল না। ছবিটি দিয়েই প্রযোজনায় যুক্ত হয়েছেন কৃতি।

তবে কৃতি ছাড়া ছবির সবাই পাল্লা দিয়ে বাজে অভিনয় করেছেন। আপনাকে সবচেয়ে বেশি হতাশ করবে কাজল। এ ছবিতে তিন দশকের ক্যারিয়ারে প্রথমবারের মতো পুলিশের চরিত্রে অভিনয় করেছেন। কিন্তু পর্দায় পুলিশ হয়ে হতাশ করেছেন কাজল।

ছবির শুরুটা তাঁকে দিয়ে, প্রথম কয়েক মিনিট দেখার পরেই বুঝে যাবেন, এই চরিত্রটি তাঁর জন্য ছিল না। সবচেয়ে হতাশার উচ্চারণ। ছবিতে স্থানীয় উচ্চারণে হিন্দি বলতে গিয়ে বারবার গুলিয়ে ফেলেছেন, নিজের অভিনয়টাই ভুলে গেছেন অভিনেত্রী।

"দো পাত্তি"-র বড় অংশের শুটিং হয়েছে নৈনিতাল, দেরাদুনসহ উত্তরাখণ্ডের মনোরম পাহাড়ি অঞ্চলে। একঘেয়ে গল্প দেখার মধ্যে এই যা স্বস্তি!


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *