• রবিবার, ০৩ মে ২০২৬, ০২:৩৮ অপরাহ্ন |

ফ্যাসিবাদ না জায়নিবাদের পক্ষে সিদ্ধান্ত নেওয়া জরুরি

প্রেসিডেন্সি নির্বাচন: ফ্যাসিবাদ না জায়োনিজম

প্রেসিডেন্ট নির্বাচনকে ঘিরে নিউ ইয়র্ক টাইমস ধারাবাহিকভাবে ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ফ্যাসিবাদের উপর নিবন্ধ প্রকাশ করেছে। একটি প্রতিবেদনে তারা উল্লেখ করেছে, "ট্রাম্পের দীর্ঘতম সময়কার হোয়াইট হাউজের চিফ অফ স্টাফ জন কেলি বলেছেন, তিনি মনে করেন ট্রাম্প ফ্যাসিস্ট সংজ্ঞার মধ্যে পড়েন।" তাদের আরেকটি প্রবন্ধ প্রশ্ন তুলেছে, "এটি কি ফ্যাসিবাদ?"

খ্যাতনামী ইতিহাসবিদ রবার্ট প্যাক্সটন একসময় ট্রাম্পকে ফ্যাসিস্ট হিসেবে চিহ্নিত করাকে ফ্যাসিজমের অতিরঞ্জিত ব্যবহার বলে মনে করতেন। কিন্তু "ট্রাম্পিজম"-এর মুখোমুখি হওয়ার পর তিনি তার অবস্থান পরিবর্তন করেছেন।

প্রবন্ধের পর প্রবন্ধ পাঠকদের মনে করিয়ে দিচ্ছে, ট্রাম্প "মূলত ফ্যাসিস্ট"। তাদের একটি শিরোনামে বলা হয়েছে: "কমলা হ্যারিস এবং ডেমোক্র্যাটরা ট্রাম্পকে ফ্যাসিস্ট বলার বিষয়ে আর দ্বিধাগ্রস্ত নয়।"

২০২৪ সালের আমেরিকান প্রেসিডেন্ট নির্বাচনটি মূলত দুটি প্রধান রাজনৈতিক দলের প্রধান প্রার্থীদের মধ্যে প্রতিযোগিতা। এটি একটি জাতীয় উৎসবমুখর অনুষ্ঠান। এই নির্বাচনে কোটি কোটি হতাশ বা বিভ্রান্ত আমেরিকানকে ভোটকেন্দ্রে গিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে হবে যে তারা কোন ধরনের দুর্যোগ থেকে রক্ষা পেতে চায়। তাদের নির্বাচন করতে হবে, তারা কী বেছে নেবে; ফ্যাসিবাদ নাকি জায়োনিজম? ‘রেকর্ডের পত্র’ দেখে মনে হচ্ছে, তাদের কথা ঠিক। অনেকে মনে করেন, ট্রাম্প একজন ফ্যাসিস্ট এবং সুযোগ পেলে তিনি এই দেশকে মুসোলিনির ইতালি, হিটলারের জার্মানি এবং ফ্রাঙ্কোর স্পেনে রূপান্তরিত করবেন।

বিচিত্র ব্যাপার হলো, একই পত্রিকায় আপনি গত ১৩ মাস ধরে ফিলিস্তিন এবং লেবাননে সংঘটিত গণহত্যার একটি ঘটনাও খুঁজে পাবেন না (ঘটনাগুলোকে প্রশ্নবিদ্ধ বা খারিজ করা ছাড়া)।

ফিলিস্তিন এবং লেবাননে চলমান ধ্বংসযজ্ঞের জন্য প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন এবং তার ভাইস প্রেসিডেন্ট কমলা হ্যারিস মূলত দায়ী, এমন কথা তাদের প্রতিবেদনে কোথাও উল্লেখ নেই।

নিউ ইয়র্ক টাইমস আমেরিকানদের ট্রাম্পের ফ্যাসিবাদ সম্পর্কে সতর্ক করছে। কিন্তু বাইডেন ও কমলা হ্যারিস-সমর্থিত ইস্রাইলের গণহত্যামূলক জায়োনিজম নিয়ে তাদের প্রতিবেদনে কোনো উল্লেখ নেই।

২০২৪ সালের আমেরিকান প্রেসিডেন্ট নির্বাচনটি মূলত দুটি প্রধান রাজনৈতিক দলের প্রধান প্রার্থীদের মধ্যে প্রতিযোগিতা। এটি একটি জাতীয় উৎসবমুখর অনুষ্ঠান। এই নির্বাচনে কোটি কোটি হতাশ বা বিভ্রান্ত আমেরিকানকে ভোটকেন্দ্রে গিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে হবে যে তারা কোন ধরনের দুর্যোগ থেকে রক্ষা পেতে চায়। তাদের নির্বাচন করতে হবে, তারা কী বেছে নেবে; ফ্যাসিবাদ নাকি জায়োনিজম?

শীঘ্রই হ্যারিস বা ট্রাম্প তাদের নিজের দেশের (এবং বিশ্বের) সবচেয়ে সহিংস নির্বাচিত দপ্তর দখল করবেন। এই দুই প্রার্থীর মধ্যে একজন শীঘ্রই সেই বিধ্বংসী ক্ষমতা হাতে পাবেন যা বর্তমানে বাইডেনের মতো একজনের হাতে রয়েছে।

প্রায় এক বছর ধরে স্বীকৃত জায়োনিস্ট বাইডেন, সামরিক সরঞ্জাম, কূটনৈতিক কৌশল, মিথ্যার চটক এবং যুদ্ধবিরতি নিয়ে প্রহসনের মাধ্যমে একটি জাতিকে ধীরে ধীরে ধ্বংস করার চেষ্টার অংশ হিসেবে ইস্রাইলের সবচেয়ে নিষ্ঠুর হত্যাযজ্ঞে সহায়তা করেছেন।

বাইডেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিঙ্কেন যুদ্ধবিরতি নিয়ে মিথ্যা বলে তার সহযোগী জায়োনিস্টদের গণহত্যা চালানোর সাহায্য করছেন। তিনি হেনরি কিসিঞ্জারের চেয়েও নির্মম মিথ্যাবাদী হিসাবে ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবেন।

‘পাগল’ ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রকে যেভাবে দুটি ভাগে বিভক্ত করেছেন বাইডেনের পূর্বসূরি ট্রাম্প প্রকাশ্য এবং নগ্ন বর্ণবাদী মনোভাবের মাধ্যমে আমেরিকান সামাজিক এবং রাজনৈতিক ইতিহাসের অন্তর্নিহিত আবরণ খুলে ফেলেছেন।

এখন দেখা যাচ্ছে, বাইডেনের প্রতিরূপ কমলা হ্যারিস তার পূর্বসূরিদের পথ অনুসরণ করতে প্রস্তুত। অন্যদিকে, ট্রাম্প আগের চেয়েও খারাপ আচরণ করতে প্রস্তুত। এই কারণে প্রশ্ন উঠেছে, ভোটাররা এই দুই বড় মন্দের মধ্যে কোনটিকে বেছে নেবেন।

বিশ্বে এই দুই প্রার্থী যে ধ্বংস ডেকে আনবেন তার কোনো পরিমাপ নেই। তারা উভয়েই নির্মম সহিংসতার ক্ষমতা রাখেন; যেমনটি ইস্রাইল এখন ফিলিস্তিন এবং লেবাননে করছে। তারা উভয়েই আমেরিকার গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানের অবশিষ্টাংশকে ধ্বংস করছেন। তারা প্রকৃতপক্ষে তাদের নিজেদের ঘেরা ধনীদের ক্লাবের কয়েকজন সদস্যের ব্যক্তিগত লাভের জন্য আমাদের ভাগ্যকে বিপন্ন করে তুলছেন।

প্রায় ৪০ থেকে ৫০ শতাংশ যোগ্য আমেরিকান ভোটার সাধারণত কোনো প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ভোট দেয় না। ভোট দেওয়া ৫০ থেকে ৬০ শতাংশ ভোটার প্রায় সমানভাবে রিপাব


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *