আজ আমেরিকার জন্য একটা বড়ো শোকের দিন। আজ যারা আমেরিকায় কী ঘটছে সে ব্যাপারে ভয় পাচ্ছেন, তাদের আশ্বস্ত করে বলা হচ্ছে যে সবকিছু ঠিক হয়ে যাবে, এটা একেবারেই ঠিক নয়।
মার্কিন নির্বাচনে অবশেষে ডোনাল্ড ট্রাম্প জিতেছেন। তিনি এবং তার রিপাবলিকান সহকর্মীরা অভিবাসীদের দেশ থেকে বের করে দেওয়ার জন্য প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। এই মানুষগুলোর জীবন নষ্ট হয়ে যাবে। তাদের পরিবারগুলিও ধ্বংস হয়ে যাবে। রিপাবলিকানরা সাশ্রয়ী স্বাস্থ্য আইনটা বাতিল করে দেবে। ভ্যাকসিন মানুষের জন্য খারাপ—এই তত্ত্বের প্রচারক রবার্ট এফ কেনেডি জুনিয়রকে সরকারী স্বাস্থ্য দপ্তরের গুরুত্বপূর্ণ পদে নিযুক্ত করার হুমকিও দেওয়া হয়েছে। তারা সামাজিক নিরাপত্তা এবং মেডিকেয়ারের বাজেট কমিয়ে দেবে, ভিন্নমত পোষণকারীদের ওপর নির্যাতন করা হবে এবং ট্রাম্পের রাজনৈতিক শত্রুদের সহিংসভাবে দমন করা হবে। পুরো দেশ জুড়ে গর্ভপাতকে অবৈধ ঘোষণা করা হবে এটাও প্রায় নিশ্চিত। নারীদের নাগরিকত্বের অধিকারও আরও খর্ব করা হবে, তাদের মর্যাদা কেড়ে নেওয়া হবে। নারীদের স্বপ্ন বিক্রি করা হবে, তাদের স্বাস্থ্যের অধঃপতন ঘটবে।
আমরা যারা ট্রাম্প কী করতে পারে, তা বুঝতে পারি, আমাদের জন্য এটা একটা ভয়ঙ্কর শোকের দিন। এই শোক আমাদের জন্য নতুন নয়। আমেরিকায় অনেকেই এই খবরটা উদ্বেগের সঙ্গে পড়ছেন। তারা নিজেদের এই অস্থির অবস্থার উপর সহিংস হামলার জন্য প্রস্তুত করছেন। তাদের ভয় ঠিক প্রমাণিত হবে। তারা দেখতে পাবেন যে নতুন প্রশাসনটা তারা যা ভাবছেন, তার চেয়েও ভয়ঙ্কর হবে। আমার মনে হচ্ছে, সাধারণ আমেরিকানদের কথা, যারা এই দুর্বল হয়ে পড়া দেশে বেঁচে থাকার জন্য সংগ্রাম করছে। তাদের জীবন ধ্বংস হয়ে যাবে, নয়তো তারা আগের চেয়েও অল্পদিন বাঁচবে।
অনেকের জন্য ট্রাম্পের এই বিজয়টা হয়তো ২০১৬ সালে হিলারি ক্লিনটনের বিরুদ্ধে তার অপ্রত্যাশিত জয়ের চেয়ে বড়ো কিছু মনে নাও হতে পারে। কিন্তু ২০১৪ এবং ২০১৬ এক নয়। আজকের এই সময় আরও খারাপ।
ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে, সরকার এবং সামাজিক সংগঠন উভয় দলই ট্রাম্পের কার্যসূচিকে গতিহীন করার বা তার প্রতিরোধ গড়ে তোলার চেষ্টা করছে। কিন্তু সেই সব সংগঠন এবং মানুষের অনেকেই এখন ট্রাম্পের সঙ্গে রাজনৈতিক সহাবস্থানের জন্য ইচ্ছুক বলে মনে হচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয় এবং এনজিওগুলো ট্রাম্পবাদকে সমর্থন করার জন্য এগিয়ে আসছে। বিলিয়ন ডলারে ঋণগ্রস্ত সংবাদমাধ্যমগুলি ট্রাম্পের বিরুদ্ধে ক্রমশ রিপোর্টিং কমানোর মধ্য দিয়ে তার দুষ্কর্মগুলি আড়াল করার আগ্রহ দেখাচ্ছে।
ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে, প্রশাসনের কিছু মধ্যপন্থী সদস্য ট্রাম্পের দ্বারা উত্থাপিত উত্তেজনাগুলোকে সহনীয় করে তোলার চেষ্টা করেছিল। সেইসব মানুষ এবং সংগঠনকে ইতোমধ্যে দূরে ঠেলে দেওয়া হয়েছে। এখন ট্রাম্পকে ধর্মবাদী, ষড়যন্ত্রকারী এবং স্যাডিষ্টদের দ্বারা ঘিরে রাখা হয়েছে। তারা এখন তাদের ঘৃণার লক্ষ্যগুলিকে আক্রমণ করার জন্য সরকারী যন্ত্রপাতিকে আরও ভালোভাবে ব্যবহার করার জন্য প্রস্তুত। এমনকি ট্রাম্প নিজেও নিজেকে ফৌজদারি আইনের উর্ধ্বে রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, আর সুপ্রিম কোর্টের সাম্প্রতিক একটি রায়ে বলা হয়েছে যে, রাষ্ট্রপতির কোনও কাজের জন্য তার বিরুদ্ধে দায় এড়ানো সম্ভব হয়েছে। এখনও অবধি কেউ কল্পনাও করতে পারছে না যে, ট্রাম্প এই দায় এড়ানোর সুযোগটি কীভাবে কাজে লাগাবেন।
ট্রাম্প যেসব দলকে অবমাননা করেন—অভিবাসীরা, নারীরা, প্রতিবন্ধী ব্যক্তিরা, নির্দিষ্ট দেশের মানুষরা, ট্রাম্পের সরকারে আবার তারা অবমানিত হবে। যারা ট্রাম্পের বিরুদ্ধে ভোট দেননি তারা এই মানুষগুলোর মর্যাদা রক্ষা করতে অস্বীকার করেছিলেন, তাই কি তারা এই লোকেদের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেননি?
আমাদের মধ্যে যারা ঐতিহাসিকভাবে বর্জিত ছিলাম, আমরা যারা কৃষ্ণাঙ্গ, বা ট্রান্সজেন্ডার, বা নারী, আমরা ট্রাম্পের ঘৃণা এবং শ্রেষ্ঠত্ববাদী আদর্শের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করেও নিজেদের যোগ্যতা এবং নাগরিকত্বকে সার্থক করে তুলতে চেষ্টা করেছি। এই মানুষগুলো এই দেশকে সাম্যতাবাদী এবং স্বাধীন রাষ্ট্রে পরিণত করার স্বপ্ন দেখেছিল। এখন তাদের নিজেদের বাঁচিয়ে রাখা, আসন্ন কঠিন সময়ে নিজেদের সুরক্ষিত রাখার ছোট্ট স্বপ্নের মধ্যে আবদ্ধ হয়ে থাকতে হবে।
আমেরিকার তাহলে ট্রাম্পই পাওনা ছিল? যখনই তিনি ক্ষমতায় আসেন তখনই সকলেই চমকে যান। একটা তত্ত্ব অনুযায়ী, এর কারণ হল যে, ট্রাম্প এই জাতির আদিম দানবত্বের প্রকাশ। এই জাতির অর্থনীতি গড়ে উঠেছে দাসদের ওপর নির্ভর করে। সেই বর্ণবাদটা এখনও কি থেকে গেছে? আমেরিকা কি হিংসা এবং দমন দ্বারা তার আঞ্চলিক এবং বৈশ্বিক প্রভাব গড়ে তুলেছে? টাকার জন্য অপরিসীম ক্ষুধা এবং নীতির প্রতি নির্লজ্জ উপে