ওজন কমছে কি না, এই প্রশ্নটাই ডায়েট শুরু করার পরে সবচেয়ে বেশি মাথায় ঘোরে। ওজন কমানোর উদ্দেশ্য থাকলে, নিয়ম করে আপনাকে স্কেলে দাঁড়াতে হবেই। তবে ওজন মাপবেন কখন? এটা-ওটা সময়ে ওজন মাপার স্কেলে দাঁড়িয়ে গেলে কিন্তু হিতে বিপরীত হতে পারে। কারণ, সব সময় স্কেল আপনাকে সঠিক ওজন না-ও দিতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, নির্দিষ্ট কিছু সময়ে ওজন মাপার যন্ত্রের উপর দাঁড়ালেই কেবল আপনি সঠিক ওজন পেতে পারেন। নয়তো সঠিক ডায়েট মেনে চললেও স্কেল আপনাকে ‘ভুল’ ওজন দেখাতে পারে। কাজেই হুট করে স্কেলে দাঁড়ানোর আগে ভাবুন। ভারতীয় পুষ্টিবিদ দীপশিখা জৈন এ নিয়ে পাঁচটি পরামর্শ দিয়েছেন।
১. খাওয়ার পরে নয়
ভারী কিছু খাওয়ার আগে বা পরে শরীরের ওজনে বড় পার্থক্য তৈরি হয়। পানীয়র ক্ষেত্রেও একই কথা। আপনি ভারী খাবার খান বা প্রচুর পরিমাণে পানি পান করেন, স্বাভাবিকভাবেই ওজন বেশি হবে। কারণ, আপনার শরীর তখনও খাবারের ফ্লুইড হজম করছে, ফলে ওজন ওঠানামা হয়। এটি এড়াতে খালি পেটে ওজন মাপুন। খুব হালকা কিছু খেলে অবশ্য সমস্যা নেই।
২. পিরিয়ডের সময় এড়িয়ে চলুন
পুষ্টিবিদদের মতে, মাসিক চক্রের সময় ওজন পরীক্ষা করা ঠিক নয়। এই সময়ে নারীদের শরীরে বেশ কিছু হরমোনের পরিবর্তন হয়, যা পানি ধরে রাখতে পারে। ফলে সাময়িকভাবে কয়েক কেজি পর্যন্ত ওজন বেশি বেড়ে যায়। এটি কোনোভাবেই প্রকৃত ওজন নয়। তাই পিরিয়ড শেষ হওয়ার পরেই ওজন মাপুন।
৩. ব্যয়ামের পর স্কেলে দাঁড়াবেন না
টানা ব্যয়াম করার পর ওজন মাপার লোভ সামলানো কঠিন। এই অভ্যাস আমাদের অনেকেরই আছে। কিন্তু বাস্তবতা হলো, ব্যয়াম-পরবর্তী সময়ে পেশিগুলি স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে যাওয়ার জন্য পানি ধরে রাখে। ফলে ওজন সাময়িকভাবে বৃদ্ধি পায়। তাই ব্যয়াম শেষ করেই ওজন না মেপে বিশ্রাম নিন। শরীরকে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরতে দিন।
৪. ঘুম থেকে উঠেই কি ওজন মাপা ঠিক?
ঘুম থেকে ওঠার পরপরই ওজন পরীক্ষা করলে আসল ফল না-ও পেতে পারেন। যদিও সকালেই ওজন মাপার পরামর্শ দেওয়া হয়। তবে পুষ্টিবিদরা মনে করেন, রাতে ঘুমানোর আগে যদি খুব বেশি পানি পান করেন, ঘুমটা যদি ভালো না হয়, তাহলে উঠেই ওজন মাপা ঠিক নয়। অনেকের আবার ঘুম থেকে উঠেই তীব্র পানি পিপাসা পায়। তাদেরও এই সময় ওজন স্কেলে দাঁড়ানো সমীচীন হবে না।
৫. ছুটি থেকে ফিরে
ছুটির সময় বা কোথাও ঘুরতে গেলে অনেক সময় স্বাভাবিক খাদ্যাভ্যাস মেনে চলা সম্ভব হয় না। ফলে অনেকেরই ওজন বেড়ে যায়। তাই ছুটি থেকে ফিরেই ওজন মাপতে যাবেন না। বাড়তি ওজন দেখে আপনি হতাশ হতে পারেন। কয়েক দিন অপেক্ষা করুন, নিজের স্বাভাবিক রুটিনে ফেরার পর আস্তে-ধীরে ওজন মাপুন।
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, সব সময়ই যে ওজন স্কেল দেখে চলতে হবে, বিষয়টা এমন নয়। সঠিক খাদ্যাভ্যাস আর স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের মাধ্যমে সুস্থ থাকাটাই বড় কথা।