• রবিবার, ১৮ জানুয়ারী ২০২৬, ০৮:৩৮ পূর্বাহ্ন |
শিরোনাম :
শহীদ জিয়াউর রহমানের ৯০তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে দুই দিনের কর্মসূচি ঘোষণা কৌশলের নামে গুপ্ত-সুপ্ত বেশ ধারণ করেনি বিএনপি: তারেক রহমান পাকিস্তানে দুই ব্যাংকসহ পুলিশস্টেশনে হামলা, আভিযানে ১২ সন্ত্রাসী নিহত খালেদা জিয়া ছিলেন বলেই দেশের সার্বভৌমত্ব সুরক্ষিত ছিল: রিজভী দেশ গড়তে খালেদা জিয়ার দেখানো পথেই এগিয়ে যেতে আহ্বান বিশিষ্ট নাগরিকদের ৮০০ বিক্ষোভকারীর ফাঁসি স্থগিত করল ইরান উত্তরায় ভবনে আগুনে তিনজনের মৃত্যু প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সাক্ষাতে সপরিবারে যমুনায় তারেক রহমান নির্বাচন ১২ ফেব্রুয়ারিতেই হবে: মার্কিন কূটনীতিকদের প্রধান উপদেষ্টা ভাঙনের মুখে জামায়াতের ইসলামি জোট

প্রবোও সুহার্তোর জামাতা, ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট পদে অধিষ্ঠিত

**ইন্দোনেশিয়ার নতুন প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নিলেন সুবিয়ান্তো**

ইন্দোনেশিয়ার প্রাক্তন জেনারেল প্রাবোও সুবিয়ান্তো রোববার দেশটির নতুন প্রেসিডেন্ট হিসেবে পার্লামেন্টে শপথ নিয়েছেন। তিনি বিদায়ী প্রেসিডেন্ট জোকো উইদোদোর কাছ থেকে দেশ শাসনের দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। ৭৩ বছর বয়সী প্রাবোও একজন জাতীয়তাবাদী রাজনীতিবিদ হিসেবে পরিচিত।

শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে প্রাবোও সুবিয়ান্তো বললেন, “আমি শপথ করছি যে আমি ইন্দোনেশিয়া প্রজাতন্ত্রের প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব যতটা সম্ভব সততা ও ন্যায্যভাবে পালন করব।” একই সঙ্গে তিনি ইন্দোনেশিয়ার নিরপেক্ষ বৈদেশিক নীতি বজায় রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। পাশাপাশি বিশ্বমঞ্চে আরও সক্রিয় ভূমিকা নেওয়ার ইঙ্গিতও দিয়েছেন।

ঐতিহ্যবাহী পোশাকে শপথ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্রাবোও সুবিয়ান্তো। উপস্থিত আইনপ্রণেতাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “ইন্দোনেশিয়ার সকল নাগরিকের জন্য, এমনকি যারা আমাদের ভোট দেয়নি তাদের স্বার্থকেও প্রাধান্য দিয়ে আমরা ইন্দোনেশিয়া সরকারকে নেতৃত্ব দিব।” এই সময় আইনপ্রণেতারা তাঁর নামে স্লোগান দেন এবং সাধুবাদ জানান।

শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানের আশেপাশে রাজধানী জাকার্তায় কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এক লাখেরও বেশি পুলিশ ও সেনা সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। ১৯৪৫ সালে ডাচ ঔপনিবেশিক শাসন থেকে স্বাধীনতা লাভের পর থেকে প্রাবোও দেশটির অষ্টম প্রেসিডেন্ট।

শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডেভিড লামি, চীনের ভাইস প্রেসিডেন্ট হান ঝেংসহ বেশ কিছু বিদেশী কূটনৈতিক উপস্থিত ছিলেন।

গত ফেব্রুয়ারিতে ইন্দোনেশিয়ায় প্রেসিডেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এরপর অনানুষ্ঠানিক ভোট গণনায় প্রতিরক্ষামন্ত্রী সুবিয়ান্তো এবং তাঁর উপরাষ্ট্রপতি জিবরান রাকাবুমিং রাকাকে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়। ২০ মার্চ দেশটির নির্বাচন কমিশন তাদের আনুষ্ঠানিকভাবে বিজয়ী ঘোষণা করে। জিবরান রাকাবুমিং রাকা হলেন বিদায়ী প্রেসিডেন্ট জোকো উইদোদোর বড় ছেলে।

ইন্দোনেশিয়ার নিয়ম অনুযায়ী, প্রথম দফায় কোনো প্রার্থী যদি ৫০% ভোট নিশ্চিত করতে না পারেন, তাহলে দ্বিতীয় দফায় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। তবে প্রাবোও প্রথম দফার ভোটেই প্রেসিডেন্ট হওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত করেছেন।

**একজন অভিজাত পরিবারের সদস্য**

প্রাবোও ইন্দোনেশিয়ার একটি অভিজাত পরিবারের সদস্য। তাঁর পিতা সুমিত্র জোজোহাদিকুসুমো দেশটির একজন বিখ্যাত অর্থনীতিবিদ। তিনি দেশ প্রতিষ্ঠাতা সুকার্নো এবং স্বৈরাচারী সুহার্তোর শাসনামলে অর্থমন্ত্রীসহ সরকারের বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেছেন।

প্রাবোওর দাদা ইন্দোনেশিয়ার প্রথম রাষ্ট্রীয় ব্যাংক প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। তাঁর ছোট ভাই হাশিম জোজোহাদিকুসুমো একজন ধনী ব্যবসায়ী। প্রাবোওর শৈশব কেটেছে সুইজারল্যান্ড, হংকং, ইংল্যান্ডসহ বিভিন্ন দেশে। ১৯৭০ সালে ইন্দোনেশিয়ার সামরিক একাডেমিতে যোগ দিতে তিনি দেশে ফিরে আসেন। পরে তাঁর প্রশিক্ষণ যুক্তরাষ্ট্রে অব্যাহত থাকে। ১৯৮৩ সালে প্রাবোও সুহার্তোর দ্বিতীয় কন্যাকে বিয়ে করেন। তাঁদের একটি পুত্র সন্তান রয়েছে। পরে অবশ্য দম্পতির মধ্যে বিচ্ছেদ হয়ে যায়।

**মানবাধিকার লঙ্ঘন**

১৯৯৮ সালে যখন সুহার্তো ছাত্রদের বিক্ষোভের মুখে ক্ষমতাচ্যুত হন, তখন প্রাবোও সেনাবাহিনীর একটি গুরুত্বপূর্ণ বাহিনীর কমান্ডিং অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। এই বাহিনী বিক্ষোভ দমনে বিশেষ অভিযান চালিয়েছিল।

অধিকারকর্মীরা এবং তাঁর সাবেক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অভিযোগ করেছেন যে সুহার্তো শাসনের শেষের দিকে প্রাবোও প্রতিবাদকারীদের তুলে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন। অপহরণের জন্য এক পর্যায়ে প্রাবোওকে সামরিক বাহিনী থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছিল। তবে তিনি তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন এবং তাঁর বিরুদ্ধে কখনো অভিযোগ গঠনও করা হয়নি।

প্রাবোওর বিরুদ্ধে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ থাকায় তাঁর মিত্র দেশ যুক্তরাষ্ট্র একবার তাঁকে ভিসা দেয়নি। এমনকি ২০১৪ সালে নির্বাচনের আগে তাঁর নাম ভিসা দেওয়া হবে না এমন ব্যক্তিদের তালিকায় যুক্ত করে অস্ট্রেলিয়া। তবে গত দশকে দুই দেশই তাদের নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়।

প্রাবোও পূর্ব তিমুরে সামরিক অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগে অভিযুক্ত হয়েছেন। ১৯৭৫ সালে ইন্দোনেশিয়া পূর্ব তিমুর আক্রমণ করে ২০০২ সাল পর্যন্ত দখল করে রাখে। সুহার্তোর পতনের পর প্রাবোও জর্ডানে পালিয়ে যান এবং ২০০৪ সালে দেশে ফিরে আসেন।

**জোকোর সঙ্গে সংযোগ**


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *