বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানিতে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) বাজারেও পতন
যুক্তরাষ্ট্রের বড় বাজারের পাশাপাশি এবার ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) বাজারেও বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের রপ্তানি কমে গেছে। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত প্রথম আট মাসে এই বাজারে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি সাড়ে তিন শতাংশ কমেছে।
ইউরোস্ট্যাটের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম আট মাসে ইইউর কোম্পানিগুলি বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে পাঁচ হাজার 932 কোটি মার্কিন ডলার মূল্যের তৈরি পোশাক আমদানি করেছে। আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় এই আমদানি তিন দশমিক 63 শতাংশ কম।
ইইউতে তৈরি পোশাক রপ্তানির শীর্ষে আছে চীন। চলতি বছরের প্রথম আট মাসে চীন ইইউর বাজারে এক হাজার 562 কোটি ডলারের তৈরি পোশাক রপ্তানি করেছে। আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় চীনের রপ্তানি কমেছে চার দশমিক 10 শতাংশ।
এই বাজারে দ্বিতীয় শীর্ষ রপ্তানিকারক বাংলাদেশ। জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত ইইউতে বাংলাদেশ এক হাজার 291 কোটি ডলারের তৈরি পোশাক রপ্তানি করেছে, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল এক হাজার 338 কোটি ডলার। সেই হিসাবে এবার রপ্তানি কমেছে সাড়ে তিন শতাংশ।
যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য দপ্তরের অধীন অফিস অব টেক্সটাইল অ্যান্ড অ্যাপারেল (অটেক্সা)র হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত বাংলাদেশের উদ্যোক্তারা 471 কোটি ডলারের তৈরি পোশাক রপ্তানি করেছেন। আগের বছরের একই সময়ের চেয়ে এই রপ্তানি নয় দশমিক 16 শতাংশ কম। আগের বছর এই বাজারে বাংলাদেশ 729 কোটি ডলারের পোশাক রপ্তানি করেছিল।
নিট পোশাকশিল্পের মালিকদের সংগঠন বিএমইএর নির্বাহী সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম প্রথম আলোকে জানিয়েছেন, আগামী গ্রীষ্ম মৌসুম পর্যন্ত তৈরি পোশাকের রপ্তানি ভালো হওয়ার সম্ভাবনা কম। তারপর শীতে হয়তো রপ্তানি বাড়বে। তবে পোশাকের দাম নিয়ে এখনও চ্যালেঞ্জ রয়েছে। কম দামের কারণে অনেক ক্রয়াদেশই পোশাক নিচ্ছে না। এছাড়া গ্যাস সঙ্কটের কারণে উৎপাদনও ব্যাহত হচ্ছে। গ্যাস সরবরাহ বাড়ানো না গেলে ক্রয়াদেশ থাকলেও রপ্তানি বাড়ানো সম্ভব হবে না।
ইইউর বাজারে তৈরি পোশাক রপ্তানিতে চীন ও বাংলাদেশের পেছনে আছে তুরস্ক, ভারত, কম্বোডিয়া, ভিয়েতনাম, পাকিস্তান, মরক্কো, শ্রীলঙ্কা এবং ইন্দোনেশিয়া। এই দেশগুলির মধ্যে কম্বোডিয়া, পাকিস্তান এবং মরক্কোর তৈরি পোশাক রপ্তানি বেড়েছে, বাকি দেশগুলির কমেছে।
এই বাজারে তৃতীয় শীর্ষ রপ্তানিকারক তুরস্ক চলতি বছরের প্রথম আট মাসে 684 কোটি ডলারের তৈরি পোশাক রপ্তানি করেছে। তাদের রপ্তানি কমেছে সাড়ে সাত শতাংশ। বাংলাদেশের প্রতিবেশী ভারতের রপ্তানি কমেছে পৌনে তিন শতাংশ। জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত ভারত ইইউতে 334 কোটি ডলারের তৈরি পোশাক রপ্তানি করেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে ভিয়েতনাম দ্বিতীয় শীর্ষ রপ্তানিকারক হলেও ইইউতে তারা পঞ্চম। চলতি বছরের প্রথম আট মাসে ইইউতে ভিয়েতনাম 265 কোটি ডলারের তৈরি পোশাক রপ্তানি করেছে। এর পরের অবস্থানে থাকা কম্বোডিয়ার রপ্তানি বেড়েছে। তারা 251 কোটি ডলারের তৈরি পোশাক রপ্তানি করেছে, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় 12 দশমিক 78 শতাংশ বেশি।
ইইউর বাজারে পাকিস্তান চলতি বছরের প্রথম আট মাসে 243 কোটি ডলারের তৈরি পোশাক রপ্তানি করেছে, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় সাত দশমিক 32 শতাংশ বেশি। মরক্কোর রপ্তানি বেড়েছে ছয় শতাংশ। আলোচ্য সময়ে মরক্কো 201 কোটি ডলারের তৈরি পোশাক রপ্তানি করেছে।
গত জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত শ্রীলঙ্কা ইইউর বাজারে 91 কোটি ডলারের তৈরি পোশাক রপ্তানি করেছে। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় শ্রীলঙ্কার রপ্তানি কমেছে দেড় শতাংশ। একই সময়ে ইন্দোনেশিয়া ইইউতে 68 কোটি ডলারের তৈরি পোশাক রপ্তানি করেছে। আগের বছরের তুলনায় ইন্দোনেশিয়ার রপ্তানি কমেছে নয় দশমিক 35 শতাংশ।