বিদেশীদের বসবাসের জন্য সবচেয়ে ব্যয়বহুল ১০টা শহর
পড়াশোনা, চাকরি বা ব্যক্তিগত কারণে অনেক মানুষ বিদেশে থাকার সিদ্ধান্ত নেয়। নিজের দেশের চেনা পরিবেশ ছেড়ে আনজান একটা শহরে বসবাস করা সব সময়ই সহজ হয় না। নতুন শহরগুলোতে বসবাস করার সময় বিদেশীদের অনেক রকম সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়।
নতুন শহরে বসবাসের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জিনিসগুলোর মধ্যে একটা হলো সেই শহরে বসবাসের করণ।
বিশ্বের বিভিন্ন শহরে বিদেশীদের বসবাসের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি ব্যয় হয় এমন শহরগুলোর একটা তালিকা দেওয়া হলো। এই তালিকাটি তৈরি করেছে যুক্তরাষ্ট্রের মার্চার নামক সংস্থা।
এই বছর তালিকার শীর্ষে থাকা ১০টা শহর হলো—হংকং, সিঙ্গাপুর সিটি, জুরিখ, জেনেভা, বাসেল, বার্ন, নিউইয়র্ক, লন্ডন, নাসাউ ও লস অ্যাঞ্জেলেস।
বিদেশীদের জন্য সবচেয়ে ব্যয়বহুল শহরের তালিকায় পঞ্চমবারের মতো হংকং শীর্ষে উঠে এসেছে। এই শহরের জীবনধারা ও সামাজিক পরিবেশের জন্য অনেক বিদেশী কর্মী সেখানে আকৃষ্ট হয়। তবে এই শহরে বসবাসের জায়গার বেশ অভাব। তাই বিদেশিদের জন্য সেখানে সাশ্রয়ী দামে বাসা খুঁজে পাওয়া কঠিন।
এর পরের স্থানে আছে সিঙ্গাপুর সিটি। এই শহরের ভৌগোলিক অবস্থান, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং বানিজ্যবান্ধব নীতি অনেকের কাছেই আকর্ষণীয়। কিন্তু এত জনপ্রিয় হওয়ায় এই শহরে বসবাসের খরচও অনেক বেশি। বিশেষ করে এই শহরের জমির কমতির কারণে এবং শহর পরিকল্পনার ক্ষেত্রে কঠোর নিয়ম থাকার কারণে বাসস্থানের খরচ অনেক বেশি। এখানে বসবাসকারী বিদেশীদের আয়ের একটা উল্লেখযোগ্য অংশ বাসা ভাড়া বা মর্টগেজের টাকা পরিশোধে চলে যায়।
জুরিখ হলো সুইজারল্যান্ডের ব্যবসায়িক রাজধানী। বিদেশীদের জন্য সবচেয়ে ব্যয়বহুল শহরের তালিকায় জুরিখের অবস্থান তৃতীয়। এই শহরের উন্নত জীবনযাত্রা, উচ্চ মানের জীবনযাপন এবং শক্তিশালী অর্থনীতির কারণে সেখানে বসবাসের খরচও বেশি।
বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা ও কূটনীতিকদের বিশ্বব্যাপী কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত জেনেভা। বিদেশীদের জন্য সবচেয়ে ব্যয়বহুল শহরের তালিকায় এই শহরের অবস্থান চতুর্থ। বিলাসবহুল জীবনযাপনের কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত এই শহরের জমির পরিমাণ খুব কম। আর এই কারণে সেখানকার জীবনযাত্রার ব্যয় অনেক বেশি। জেনেভায় বসবাসকারী বিদেশীদের বিশেষ করে শহরের প্রাণকেন্দ্রে বসবাস করলে অনেক বেশি বাড়ি ভাড়া গুনতে হয়। এছাড়াও অন্যান্য জিনিসপত্র ও সেবার জন্যও উচ্চ মূল্য দিতে হয়। তবুও এর বহুভাষিক পরিবেশ ও বিশ্বমানের সুযোগ-সুবিধার কারণে অনেক বিদেশী এই শহরে বসবাসে আগ্রহী হয়।
তালিকায় পঞ্চম স্থানে থাকা বাসেলও সুইজারল্যান্ডের একটি শহর। ওষুধ ও রাসায়নিক শিল্পের কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত এই শহরটি বিশ্বের অনেক কর্মক্ষেত্রে আকর্ষণীয়। সুন্দর অবকাঠামো, অত্যন্ত মানসম্পন্ন স্বাস্থ্য সেবা এবং জীবন্ত সাংস্কৃতিক পরিবেশ শুধুমাত্র আকর্ষণীয়ই নয়, এই শহরের জীবনযাত্রার খরচও বাড়িয়েছে।
বার্ন হলো সুইজারল্যান্ডের রাজধানী। বিদেশীদের জন্য ব্যয়বহুল শহরের তালিকায় বার্নের অবস্থান ষষ্ঠ। এই শহরে সুন্দর অবকাঠামো এবং উচ্চমানের সরকারি পরিষেবা পাওয়া যায়। কূটনৈতিক সম্প্রদায়ের কাছে বার্ন একটি সমাদৃত জায়গা। এখানে আর্থিক খাতও খুব শক্তিশালী। এই সবকিছুর কারণে এই শহরের জীবনযাত্রার ব্যয়ও বেশি। এই শহরে বসবাসকারী বিদেশীদের বাসস্থানের জন্য অনেক বেশি অর্থ খরচ করতে হয়।
যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যিক ও সাংস্কৃতিক রাজধানী হিসেবে পরিচিত নিউইয়র্ক সিটি তালিকায় সপ্তম অবস্থানে আছে। এই শহরের আকর্ষণীয় গগনচুম্বী অট্টালিকা, বৈচিত্র্যময় অঞ্চল এবং এর বিশ্বব্যাপী প্রভাবের কারণে অনেকে এই শহরের প্রতি আকৃষ্ট হয়। তবে এই জনপ্রিয়তার দামটাও বেশ চড়া। বিশেষ করে এই শহরে বসবাসের জন্য বিদেশীদের বেশি অর্থ গুনতে হয়। এখানে বসবাসকারী বিদেশীদের আয়ের বড় অংশই উচ্চ পরিবহন খরচ ও প্রয়োজনীয় জিনিসের উচ্চ দাম মেটাতে ব্যয় হয়।
এ বছর বিদেশীদের জন্য ব্যয়বহুল শহরের তালিকায় যুক্তরাজ্যের রাজধানী লন্ডনের অবস্থান অষ্টম। আগের বছরে এটি ১৭তম অবস্থানে ছিল। এই শহরটি আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। এ ছাড়াও এর সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যও অনেক সমৃদ্ধ। এখানে বসবাসকারী মানুষও খুব বৈচিত্র্যময়। সব মিলিয়ে এই শহরে বসবাস করা অনেক ব্যয়বহুল। বিশেষ করে লন্ডনে বসবাসকারী বিদেশীদের বাসস্থানের জন্য বেশি অর্থ খরচ করতে হয়।
বাহামার রাজধানী নাসাউ তালিকায় নবম স্থ